বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার, ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলদ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলু ও রবি শস্যের মৌসুম সামনে রেখে কিছু কৃষক আগাম টিএসপি ও ডিএপি সার কিনতে শুরু করায় বাজারে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো কোনো ডিলারের সময়মতো সার উত্তোলন ও বিতরণ না করার ঘটনা যুক্ত হয়ে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে এটিকে সার সংকট হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
মীর শাহে আলম জানান, দেশের ১৩৩টি গুদাম ও ৩৩টি বাফার গুদামে সার মজুত রয়েছে। ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপির চাহিদা বিবেচনায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোন ফসলের জন্য কখন কত সার প্রয়োজন, সেই হিসাবও সরকারের কাছে রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিলার ও খুচরা ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া হবে।
সার বিতরণ নিয়ে ডিলারদের মধ্যেও যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেটি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। মঙ্গলবার জারি করা পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে—বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলাররাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার উত্তোলন ও বিক্রি করবেন। কোনো ডিলার বাতিল করা হচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে সার বিতরণ ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও। তিনি বলেন, কিছু ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন বা বিতরণ না করায় সাময়িক সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি; সেসব ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে মাঠের বাস্তবতা নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও যদি কোনো এলাকায় ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে কৃষকের কাছে সেটিই ‘সার সংকট’ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। ফলে শুধু গুদামে মজুত থাকলেই হবে না, সেই সার সঠিক সময়ে, সঠিক দামে এবং সঠিক পরিমাণে কৃষকের হাতে পৌঁছানোই হবে আসল পরীক্ষা।
এ কারণেই কৃষকদের এখনই অগ্রিম সার কিনে মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বার্তা—আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনুন; সরকার চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সার নিয়ে সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট—মজুত আছে। এখন সেই মজুত যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী, ডিলারের অনিয়ম কিংবা কৃত্রিম আতঙ্কের কারণে কৃষকের নাগালের বাইরে না যায়, সেটিই হয়ে উঠছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।