কারাগারে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমানোর ওষুধ ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করা অধ্যাপক বেলিন্ডা ওয়াইন্ডারের হিসাবে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন অপরাধে দণ্ডিত প্রায় চারজনের একজনকে এ চিকিৎসার আওতায় আনার কথা বিবেচনা করা হতে পারে। এ সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কারাগারে বন্দীদের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি যৌন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বেচ্ছায় এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আগ্রহী।
তবে শিশু যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রাসায়নিকভাবে যৌনক্ষমতা কমানোর চিকিৎসা বাধ্যতামূলক করার যে প্রতিশ্রুতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগে দিয়েছিলেন, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে কি না, তা নিয়ে সরকার নতুন করে ভাবছে।
বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১৫ হাজার পুরুষ বন্দী যৌন অপরাধে সাজা ভোগ করছেন। এ ছাড়া অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়নের সন্দেহে প্রতি মাসে ৮৫০ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচি বাড়ানোর পরিকল্পনা
অনিয়ন্ত্রিত যৌন তাড়না ও সমস্যাজনক যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ‘মেডিকেশন টু ম্যানেজ প্রবলেমেটিক সেক্সুয়াল অ্যারাউজাল’ নামে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এটি ১০টি থেকে বাড়িয়ে ২০টি কারাগারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাইরে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের আরও দুটি ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) অঞ্চলে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ চিকিৎসা মূলত এমন ব্যক্তিদের জন্য, যারা অনিয়ন্ত্রিত ও সমস্যাজনক যৌন চিন্তায় ভুগছেন এবং নিজেদের যৌন তাড়না ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে মূলত দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর একটি সারট্রালিন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন, যা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে।
২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির সম্ভাবনা
অধ্যাপক বেলিন্ডা ওয়াইন্ডার বলেন, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির ফলাফল ইতিবাচক হলে আগামী ২৮ মাসের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারগুলোতে এ চিকিৎসা আরও ব্যাপকভাবে চালু হতে পারে। তার মতে, অন্তর্বর্তী ফলাফল ইতিবাচক হলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কর্মসূচি চালুর জন্য বিচার মন্ত্রণালয় প্রস্তুত হতে পারে।
তবে শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন তিনি। বন্দীদের নিয়মিত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
ওয়াইন্ডারের মতে, যৌন অপরাধীদের জন্য দেশব্যাপী কার্যকর চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।