র্যাব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৪টা ২৫ মিনিটে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দৌহপাড়া সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নেছারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাতলা উপজেলার আগুনিয়া তাইড় গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
গত ৭ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া বাজারে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি। শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের এসি বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০১৩১) দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে এরুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতের ওপর থাকা দিনমজুরদের চাপা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুহূর্তেই ফুটপাতটি পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই সাতজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আরও ১৪ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়। ৮ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় করা মামলাটির নম্বর ৩৭। মামলায় পেনাল কোডের ৯৮/১০৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, গ্রেপ্তার এড়াতে নেছারুল শিবগঞ্জের দৌহপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন।
এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে সিপিএসসি বগুড়ার একটি চৌকস দল দৌহপাড়া সৈয়দপুর এলাকায় মো. রশিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার নেছারুল ইসলামকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাত প্রাণের সেই ঘটনায় ২০ দিন পর চালক গ্রেপ্তার হলেও, এরুলিয়ার সেই ফুটপাতের রক্তাক্ত সকাল এখনো স্থানীয়দের মনে তাজা—যেখানে কয়েক সেকেন্ডের বেপরোয়া গতিতে থেমে গিয়েছিল সাতটি জীবন।