ভুক্তভোগী যুবক দীপ্র মৃধা ওই গ্রামের ক্ষেত্রমোহন মৃধার ছেলে। অভিযুক্ত তরুণী পূজা হালদার একই ইউনিয়নের বহরভোলা গ্রামের মিহির হালদারের মেয়ে।
দীপ্রর পরিবারের দাবি, পূজার সঙ্গে কয়েকদিনের সম্পর্কের পর গত ৮ জুন তারা পিরোজপুরের জিয়ানগর এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় এক ঠাকুরের মাধ্যমে মন্দিরে তাদের বিয়ে হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর দীপ্রর কাছ থেকে একটি সোনার চেইন, কানের দুল, আংটি, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নেওয়া হয়। বিয়ের দুই দিন পর দীপ্রকে না জানিয়ে পূজা এসব নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।
দীপ্রর পরিবারের আরও দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সমাধানের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে স্থানীয় সাবেক এক চেয়ারম্যান বিষয়টি জানতে পূজার বাবা মিহির হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন মেয়েকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এক বিঘা বাগানবাড়ি লিখে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
দীপ্রর বোন দীপ্তি রানী মৃধা বলেন, “আমার ভাইয়ের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল। সে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে টাকা-পয়সা নিয়েছে। আমার মা ও অন্য এক বোনের কাছ থেকেও একাধিকবার টাকা নিয়ে মেয়েটিকে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও মেয়েটি আমার ভাইকে দিয়ে স্কুলের সামনে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সিঁদুর পরিয়েছিল। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাই।”
দীপ্রর মা কানন বালা বলেন, “আমার ছেলে বিয়ে করবে বলে আমার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছিল। পরে শুনেছি তারা বিয়ে করেছে। এখন টাকা-পয়সা ও বিভিন্ন সম্পদ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছে না।”
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে দীপ্র মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মিহির হালদার ও তার মেয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগের কথা তারা শুনেছেন। তাদের ভাষ্য, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগের পর আবার জমি দেওয়ার শর্ত দেওয়ার বিষয়টি অমানবিক।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পূজা হালদার ও তার বাবা মিহির হালদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মোড়লগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, এ বিষয় এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।