গৃহকর্ত্রী জাহেদা আক্তার তিমু জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি স্কুলে যাওয়ার সময় প্রিয়াকে ভাত রান্না করে খেয়ে নেওয়ার জন্য বলে যান। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভাঙেন। ভেতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার লাশ ঝুলতে দেখেন তারা।
খবর পেয়ে পরশুরাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ধাতব ‘লাভ’ আকৃতির বস্তু এবং ডায়েরির একটি পাতায় ইংরেজি অক্ষরে ‘K+P’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আলামতের সঙ্গে প্রিয়ার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে দীর্ঘ সময় পার হলেও নিহত কিশোরীর স্বজনরা লাশ নিতে না আসায় অবশেষে গৃহকর্ত্রীর নিজ এলাকা পরশুরামের বক্সমাহমুদে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে পরশুরাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।