রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। আদালতে হাজিরার আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে আবারও ঢাকার ওই হাসপাতালে নেওয়ার কথা রয়েছে।
তানভীরের আইনজীবী ও এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, তানভীর বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তার দাবি, কোমর থেকে নিচের অংশ সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেছে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী অভিযোগ করেন, একটি প্রকাশ্য ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তানভীরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ‘প্রহসনমূলক’ মামলা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, রিমান্ডে নেওয়া এবং কারাগারে থাকার সময় তানভীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মামলার নথি ও আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মণিপুরীপাড়া থেকে তানভীরকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই দিন তাকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ১০ আগস্ট আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আইনজীবীর দাবি, রিমান্ড ও কারাগারে থাকা অবস্থায় ব্রেন স্ট্রোক, প্যানিক ডিজঅর্ডার এবং সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসজনিত জটিলতায় তানভীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে, অসুস্থ অবস্থায় একজন মামলার আসামিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে হাজির করার বিষয়টি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। তানভীরের চিকিৎসা, তার বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ এবং আইনজীবীর উত্থাপিত নির্যাতনের দাবিগুলো এখন পৃথকভাবে যাচাইয়ের বিষয় হয়ে উঠেছে।