প্রেমের সম্পর্ক পরিবার মেনে না নেয়ায় গাইবান্ধায় বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন স্কুলছাত্র আল-আমিন (১৫) ও এক সন্তানের জননী তসলিমা আক্তার তানজিম (২৫) । টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা ।
সোমবার ( ১২ অক্টোবর) উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আল আমিন মিয়া নামের ওই কিশোর এবং অপর গৃহবধূ তসলিমা আক্তার তানজিম পরিবারের উপর অভিমান করে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন । পরিবারের লোকজন বিষয়টা বুঝতে পেরে দু'জনকে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
নিহত আল আমিন পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর নিহত তাসলিমা আক্তার তাজমিন (২৫) দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে ও পার্শ্ববর্তী পদুমশহর জোরডোবা গ্রামের ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায় , সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে কিশোর আল আমিনের সঙ্গে এক সন্তানের জননী তাসলিমার পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে গত রোববার বিয়ের দাবিতে আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তাসলিমা। তবে বয়সের ব্যবধান ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
স্বজনদের অমতে কোনো উপায় না পেয়ে সোমবার জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা কীটনাশক গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন দু'জন। পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাঁদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আল আমিনের স্বজনরা কৌশলে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। অন্যদিকে তাসলিমার মরদেহ হাসপাতালেই থেকে যায়। পরবর্তীতে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পূর্ব রাঘবপুর গ্রাম থেকে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, দরুল হুদা খবর পেয়ে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন । পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন পুলিশ।