আজ রোববার ৪ অক্টোবর (২০২৬) স্বাক্ষরিত ঐ ডিও লেটারে (ডি. ও. নম্বর: ০৩.০০.০০০১.০৮২.৪৭.১৬৮.২৬-০৮) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খান উল্লেখ করেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরি প্রার্থী জনাব মিশন আচার্য নিয়োগপত্র পাননি মর্মে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আমি আমার নিজ জেলা ঝিনাইদহের সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি যে, জনাব মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান নামক স্থানে জন্মলগ্ন থেকে বসবাস করছেন। তিনি এই এলাকাতেই জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং আজ অবধি এই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।”
চিঠিতে মিশন আচার্যের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ছোটবেলা থেকেই তিনি পিতৃহীন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁর মা অনেক কষ্টে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
ডিও লেটারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় অনুসন্ধান অনুযায়ী মিশন আচার্য অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র স্বভাবের যুবক এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।
সকল তথ্য ও মানবিক দিক বিবেচনায় এনে বিধি মোতাবেক মিশন আচার্যকে সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগপত্র প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন মো: রাশেদ খান। একই সাথে পত্রে মিশন আচার্যের প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় মিশন আচার্যের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন, এই মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে একজন যোগ্য ও মেধাবী তরুণ তাঁর প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন।