নিহত জিতু একাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
এর আগে, একই ঘটনায় সন্ত্রাসী জিতুর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন শুকরান বেগম ও তার ছেলে সুমন হোসেন (২৮)। বর্তমানে তাঁরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১২টার দিকে চাঁদা ও মাদকের টাকার দাবিতে জিতু স্থানীয় লাল মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন। তিনি শুকরান বেগমের ছেলে সুমনের কাছে টাকা দাবি করে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিতু ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো চাকু দিয়ে সুমনের মুখের বাঁ পাশে আঘাত করেন। সন্তানকে রক্তাক্ত হতে দেখে মা শুকরান বেগম রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুকরান বেগম অভিযোগ করে বলেন, একপর্যায়ে সন্ত্রাসী জিতু ঘরের ভেতরে ঢুকে তাঁর পুত্রবধূর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ শুরু করেন। এতে পরিবারের সদস্যদের জীবন ও সম্মান রক্ষায় বাধ্য হয়ে ঘরে থাকা দা দিয়ে জিতুর ওপর পাল্টা হামলা চালান তিনি। এতে গুরুতর জখম হন জিতু।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় জিতুকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্বজনেরা নিশ্চিত করেন। এরপর মরদেহ ফিরিয়ে এনে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ওসি মাসুম খান আরও জানান, নিহত শরিফুল ইসলাম জিতু এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের বেশ কিছু মামলা রয়েছে।