অনুষ্ঠানে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, পিরোজপুর সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি জেলা পরিষদও হাসপাতালের পাশে দাঁড়াতে চায়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার জন্য এসব সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের কাছে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডারের মধ্য থেকে সাতটি সদর হাসপাতালে, দুটি হার্ট ফাউন্ডেশনে এবং একটি ডায়াবেটিক সমিতিতে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সদর হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পাঁচটি গার্বেজ ট্রলি ও একটি গার্বেজ ভ্যান দেওয়া হয়েছে।
আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ বছরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে যে অক্সিজেন ফ্লো ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি বর্তমানে মেরামতেরও উপযোগী নেই। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালের আরএমও, সিভিল সার্জন এবং পিডব্লিউডির প্রকৌশলীরাও তাকে জানিয়েছেন যে সেটি মেরামত করার মতো অবস্থায় নেই।
তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আহ্বান জানান এবং নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের দাবি করেন।
এ সময় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। তিনি জানান, সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। পিরোজপুরের পাশাপাশি বাগেরহাটসহ আশপাশের এলাকা থেকেও রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে জানান তিনি।
আলমগীর হোসেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বিসিএস কর্মকর্তা শুভল চন্দ্র গোলদার সদর হাসপাতালের আরএমও এবং চিকিৎসক শিশির রঞ্জনের হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।
এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, পিরোজপুরের মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা পরিষদের দায়িত্ব। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবায় এসব সামগ্রী কাজে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ পিরোজপুরবাসীর পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।