বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের খান্দার এলাকায় বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, ‘পাসপোর্ট কর্নার’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটার ডট পি প্রসেসিংয়ের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সরকারি নথি তৈরির কাজ চলছিল। প্রায় তিন বছর ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযানের সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান, সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব স্বাক্ষর ও সিল বিভিন্ন নথিতে বসিয়ে তা প্রিন্ট করা হতো। এমনকি সাধারণ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইল ব্যবহার করেই তৈরি করা হচ্ছিল ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ।
শুধু স্বাক্ষর নকল করেই থেমে থাকেনি জালিয়াতির এ প্রক্রিয়া। অভিযানে এমন নথিও পাওয়া গেছে, যেখানে একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষরের সঙ্গে অন্য কর্মকর্তার সিল ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা সিভিল সার্জন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, সিটি প্রশাসক, ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল কম্পিউটারে স্ক্যান করে ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায়।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘পাসপোর্ট কর্নারে’ অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত দুটি কম্পিউটারসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে এ ধরনের অপকর্মের কথা শোনা গেলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। অভিযান চালিয়ে সরেজমিনে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান করে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের নাম ও স্বাক্ষর কম্পিউটার ফাইলে বসিয়ে এসব সনদ তৈরি ও প্রিন্ট করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কম্পিউটার পরিচালনা ও এ কাজে সহযোগিতার সঙ্গে আরও দুজন জড়িত থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় জব্দ করা কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করে জালিয়াতির পরিধি এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরির এমন ঘটনায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নয়, সরকারি সনদের নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।