মাহমুদুল হাসানের দাবি, আদালতের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্রের ভিত্তিতেই তিনি শরণখোলায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও প্র্যাকটিসের বৈধতা নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার কয়েকটি ইতোমধ্যে আদালতে বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে একই অভিযোগ বারবার সামনে এনে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি অন্য চিকিৎসকের সনদ ও নিবন্ধন ব্যবহারের অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন এবং বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টির প্রতিকার চান। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি পুনরায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান।
এর মধ্যেই গত ৪/৫ মে কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে তার চেম্বারে প্রবেশ করে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন মাহমুদুল হাসান। তার দাবি, প্রথমে তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় তিনি বাগেরহাট প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি তদন্তের জন্য প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে পুরোনো ও আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোকে সামনে এনে একের পর এক প্রতিবেদন করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধি আদালতের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেছেন। তিনি বলেন, হাইকোর্টে যে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে, সেই বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্র্যাকটিসের সুযোগ পেয়েছেন। কোনো অভিযোগ থাকলে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে এভাবে হয়রানি করার কোনো অধিকার কারও নেই।
তার দাবি, আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে’ তার সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিকৃত বা মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন মাহমুদুল হাসান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মাহমুদুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। দরিদ্র রোগীদের কম খরচে কিংবা বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তার রোগীর সংখ্যা বাড়ার পর একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তবে চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও প্র্যাকটিসের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সুমন অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কিছু বিএনপি, জামায়াত ও সাংবাদিককে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে বিগত সরকারের আমলের স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতা, বর্তমানে ‘ডেভিল হান্ট’সহ একাধিক মামলার আসামিরা জড়িত রয়েছেন। সুমনের অভিযোগ, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্নভাবে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের মতো নামধারী সাংবাদিকদের ব্যবহার করে এসব অপকর্ম করা হচ্ছে।
মাহমুদুল হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হোক। কিন্তু বিচারাধীন বিষয়কে সামনে এনে বারবার হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয় এবং পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মো. মাহবুবুল আলম বলেন, স্থানীয় এক চিকিৎসকের সঙ্গে মাহমুদুল হাসানের পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব থাকায় বিষয়টি বর্তমান পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন, তুলনামূলকভাবে মাহমুদুল হাসানের চিকিৎসা কার্যক্রম ও রোগীর সংখ্যা বেশি। বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাহমুদুল হাসানের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।