পুলিশের ভাষ্য, মরদেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল যে প্রাথমিকভাবে সেটি নারী নাকি পুরুষের, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহের কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলার পাশাপাশি একটি হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কিশোরী ও অভিযুক্তরা পূর্বপরিচিত ছিল। ঘটনার সময় তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে একটি টেম্পোতে যাত্রা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, যৌন নির্যাতনের আগে টেম্পোর ভেতরে তারা একসঙ্গে মদ পান করে। পরে কিশোরীকে ধর্ষণ, ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং মরদেহ মাঠে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় এবং শুরুতে অভিযুক্তদের পরিচয় জানা না থাকায় তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সড়কের ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়।
ফুটেজ বিশ্লেষণে ঘটনার সম্ভাব্য সময়ে ঘটনাস্থলের কাছে একটি টেম্পোর চলাচল দেখতে পায় পুলিশ। অন্ধকারের কারণে টেম্পোটির নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ অনুসরণ করে সেটির চলাচলের গতিপথ বের করেন তদন্তকারীরা।
১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন টেম্পোটির সন্ধান পায় পুলিশ। পরে চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন কিশোর।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচু। তিনি খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। আটক তিন কিশোরের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা দুটি ছুরি, অভিযুক্তদের পরনের পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা নির্ধারণ এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পকসো আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।