বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ১৯৮১ সালে দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটির অবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ম্যানেজিং কমিটি এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবনটি অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক জানান, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত খালিশপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি মহেশপুর উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে বিদ্যালয়টি শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। এ বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ নানা ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ে ১৫টি সেকশন ও দুটি ভোকেশনাল সেকশন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির আটটি শ্রেণিকক্ষ বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ১৯টি শ্রেণিকক্ষ থাকার পরও সেকশন বিভক্তির কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে নির্মিত দ্বিতল ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং ভবনের মেঝেতে পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিভিন্ন স্থানে স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে ভবনটির বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সহজেই দেখতে পারবেন। দ্রুত ভবনটি অপসারণ করে নতুন শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা না হলে যেকোনো সময় ছাদ বা ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-অভিভাবকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।