দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করছে। বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদিন গড়ে ২৫ লাখ যান চার্জ নিলেও দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট। অথচ এই বিশাল ব্যবহারের বড় অংশই লোড পূর্বাভাসে ধরা পড়ে না। ঢাকা মহানগরীর অনেক স্থানে আবাসিক লাইন, বাণিজ্যিক মিটার বাইপাস বা সরাসরি অবৈধ সংযোগ দিয়ে এসব যান চার্জ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি আগারগাঁও ফিল্ম আর্কাইভের পাশেও এমন অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের দেখা মিলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইজিবাইক চার্জিং ঘিরে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনায় শপিং মলগুলো ৭টায় অন্ধকার হয়ে গেলেও রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত সচল থাকছে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানপাট। ঢাকায় অন্তত সাড়ে ৩ লাখ ফুটপাতের দোকানে প্রতিদিন কয়েক লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার অধিকাংশই সংগৃহীত হয় পার্শ্ববর্তী ভবন বা অবৈধ লাইন থেকে। ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (এফইএবি) জানিয়েছে, শপিং মলের ৬০ শতাংশ বিক্রি হয় সন্ধ্যার পর। ফলে এই অসম সময়সীমা বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। তারা আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের মাত্র ১১ শতাংশ বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে ৩ ঘণ্টা শপিং মল বন্ধ রেখে আহামরি উন্নতি সম্ভব নয়। উল্টো অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেশি হবে।’ তার মতে, ৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎ আবাসিক খাতে ব্যবহার হয়, যার একটি বড় অংশ এখন ইজিবাইক চার্জিংয়ের মতো বাণিজ্যিক কাজে চলে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য ফেরাতে হলে কেবল বৈধ খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেই হবে না, বরং নিচের পদক্ষেপগুলো জরুরি-
ইজিবাইকের নিবন্ধন: ইজিবাইক খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এনে আলাদা ট্যারিফ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং স্টেশন চালু করা।
সমন্বিত অভিযান: ফুটপাত ও অলিগলির অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত তদারকি।
বিকল্প ব্যবস্থা: সোলার চার্জিং স্টেশনের প্রসার ঘটানো।
বৈধ গ্রাহকদের চাপে রেখে অবৈধ ব্যবহারকারীদের ছাড় দেওয়ার এই সংস্কৃতি বিদ্যুৎ খাতের সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।