ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ফকির আকতারুল আলম বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে খাদ্যসহ প্রায় সব পণ্যে। আগেভাগে বাজেট তৈরি, সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও সঞ্চয়ের অভ্যাসই পারে এই চাপ সামাল দিতে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে:
পরিবহন ও যাতায়াত ব্যয় হ্রাস
জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি বাড়ে যাতায়াত খরচ। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের চেষ্টা করা উচিত। অফিস বা স্কুল কাছে হলে হাঁটা বা সাইকেল চালানো কার্যকর বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা জরুরি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসে সাশ্রয়
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় কমাতে অপ্রয়োজনীয় বাতি ও পাখা বন্ধ রাখা, এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার এবং রান্নার সময় ঢাকনা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার বিদ্যুৎ বিল কমাতে সাহায্য করে।
নতুন মাসিক বাজেট ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ
পুরোনো বাজেটের বদলে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে নতুন বাজেট তৈরি করতে হবে। বিনোদন বা বিলাসী কেনাকাটা কমিয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা ও খাদ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। বাইরের খাবারের চেয়ে ঘরে রান্না করা খাবার সাশ্রয়ী। এ ছাড়া মৌসুমি ও স্থানীয় পণ্য কেনা এবং মাসিক তালিকা করে বাজার করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জরুরি তহবিল ও ঋণ ব্যবস্থাপনা
ভবিষ্যৎ বিপদের কথা ভেবে অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমান অর্থ সঞ্চয় করা উচিত। এ সময় নতুন ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলা এবং ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার সীমিত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
অতিরিক্ত সাশ্রয়ী অভ্যাস
পুরোনো জিনিস মেরামত করে ব্যবহার, পরিবারের সবাইকে মিতব্যয়ী হতে উৎসাহিত করা এবং সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচাতে অনলাইন কেনাকাটার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
পরিকল্পিত বাজেট ও মিতব্যয়ী জীবনযাপনই বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংসারকে স্থিতিশীল রাখতে পারে।