কোথাও ১০–১৪ ঘণ্টা, আবার কোথাও ২৪ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর মিলছে সামান্য তেল।
সপ্তাহের শেষ দিনে গভীর রাতেও পেট্রোলপাম্প ঘিরে ছিল ক্লান্ত মানুষের ভিড়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। একই চিত্র ছিল বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এলাকাতেও। রাত পেরিয়ে শুক্রবার ভোর হতেই মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক জহরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে শুক্রবার বেলা ১১টায় তেল পান—প্রায় ২৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর। তিনি বলেন, “একদিন-এক রাত কোনো আয় করতে পারিনি। ৮০০ টাকার তেল পেয়েছি, যা দিয়ে হয়তো দুই দিন চলবে। এরপর আবার একই কষ্ট করতে হবে।”
জহরুল আরও বলেন, “আমি পরিবার চালাই এই আয়ের ওপর। তেল না পেলে কী করব, বুঝতে পারছি না। ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমও হচ্ছে না, অসুস্থ হয়ে পড়ছি।”
তার মতো অসংখ্য মানুষকে দিন-রাত লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। খিলক্ষেত এলাকায় মধ্যরাতে কয়েকশ মোটরসাইকেল ও অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি তেলের অপেক্ষায় ছিল। এদের অধিকাংশই পরিবহননির্ভর পেশার সঙ্গে যুক্ত।
একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে কাজে যেতে হয়। তেল না থাকলে জবাবদিহি করতে হবে, এমনকি চাকরিও হারাতে পারি। তাই ছুটির দিনেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়েছে।”
শুক্রবার ভোরে নিকুঞ্জ-২ এলাকায় দুই কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অন্যদিকে বনানী পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যানবাহনের সারি ছিল। এতে ছুটির দিনেও ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এলাকাতেও ভোর সাড়ে ৩টায় উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তেলের লাইন বনানী ১১ নম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হয়। এই পাম্প থেকে তেল নেওয়া মোহাম্মেদ জয় বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেয়েছি।”
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগের রাত থেকেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তেল সংকটের কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।