রাজধানীর বাড্ডা এলাকার ‘মক্কা’ ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জাহিদুর রহমান দিন শেষে জানতে পারেন, পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তাকে ফিরে যেতে হয় হতাশা নিয়ে।
জাহিদুর রহমান বলেন, তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে চাকরি করেন এবং কয়েকদিন ধরে তেলের সংকটে ভুগছেন। প্রায় ৯ ঘণ্টা মোটরসাইকেলের ওপর বসেই তিনি সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার সেরেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেল পাননি।
একই পরিস্থিতি রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনেও দেখা গেছে। মৎস্য ভবন এলাকার রমনা ফিলিং স্টেশনে রাইড শেয়ারিং চালক আব্দুর রাজ্জাক রাত ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তিনি বলেন, তেল না পেলে তার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
চালকরা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে, পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে ক্রেতাদের চাপও বেড়েছে।
বাড্ডার এক পাম্প মালিক জানান, আগে যেখানে কয়েক হাজার লিটার তেল পাওয়া যেত, এখন তার অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে অকটেন সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ১৯৩ টন অকটেন সরবরাহ করা হলেও এ বছর মার্চে তা বেড়ে ১ হাজার ২১৯ টনে দাঁড়িয়েছে। তবে চলতি এপ্রিল মাসে প্রতিদিনের সরবরাহ কমে গড়ে ১ হাজার ১১৫ টনে নেমে এসেছে।