সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান স্বাস্থ্য খাতে নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি এবং অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাতিলসহ সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে জোর দেন।
তবে বৈঠকগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনবল সংকট, বেতন বন্ধ, টিকা সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং অর্থায়ন ঝুঁকির বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করলেও সেগুলো কার্যকরভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের কার্যবিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন দপ্তর সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা তুলে ধরেছিল। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে এবং নতুন কাঠামোয় গেলে সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সতর্ক করেন, ওপি কাঠামোর অধীনে থাকা জনবল হঠাৎ বাদ পড়লে মাঠপর্যায়ে সেবা ভেঙে পড়বে। একই সঙ্গে টিকা ক্রয় ও রোগ নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা না বাড়িয়ে সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে বের হলে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তারা মত দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওপি বাতিলের ফলে স্বাস্থ্য খাতের সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর মজুদে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং সাপ্লাই চেইন কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির এক কর্মকর্তা জানান, পূর্ববর্তী কাঠামোতে টিকা ক্রয় ও বাজেট ব্যবস্থাপনা সুসংগঠিত ছিল। কিন্তু হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে অর্থায়নে ছেদ পড়ে, যা টিকাদান কার্যক্রমকে ব্যাহত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় টিকাদানে সামান্য গ্যাপও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু দ্বিতীয় ডোজ টিকা পায় না, যার ফলে একটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন, জনবল সংকট এবং বেতন জটিলতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও পরিবার পরিকল্পনা খাতের হাজারো কর্মীর বেতন অনিশ্চয়তায় থাকায় সেবাদান কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের সাবেক কর্মকর্তারা মনে করছেন, কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, হঠাৎ সিদ্ধান্তের কারণে সেবার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে তৃণমূল পর্যায়ে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, সব তথ্য পর্যালোচনা করে শিগগিরই একটি সমন্বিত ব্যাখ্যা দেওয়া হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।