কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত), দেশের ৭৪টি কারাগারে ২৯৯টি শিশু মায়েদের সঙ্গে রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুদের মায়েদের বড় অংশই মাদক মামলার আসামি।
সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে, যেখানে ৫১টি শিশু বড় হচ্ছে। এসব শিশুদের দিনলিপি শুরু হয় সকাল ৭টায় নাস্তা দিয়ে, এরপর কিছুক্ষণ খেলাধুলা বা পড়াশোনা করে সন্ধ্যা নামার আগেই আবার সেলে ফিরে যেতে হয়। তাদের খেলার সঙ্গী বা শিক্ষক হিসেবেও থাকেন অন্য বন্দিরা।
বাংলাদেশ জেল কোডের ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী বন্দিরা ৪ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারেন। এরপর স্বজনরা না নিলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় সরকারি শিশুনিবাসে। মনি নামের সেই ফাঁসির আসামির মা নুর নাহার আক্ষেপ করে বলেন, বাইরের পরিবেশটা কী নাতনি এখনো জানে না। ওখানে আরেকজন ফাঁসির আসামিকে ও ‘ছোট মা’ ডাকে। জেলেও কষ্ট করছে, বাইরে এলেও কষ্ট করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের কারাগারগুলো এখনো প্রকৃত সংশোধন কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি। বিশেষ করে জেলা কারাগারগুলোতে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষা, বিনোদন বা কাউন্সেলিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। চিহ্নিত ও পেশাদার অপরাধীদের সংস্পর্শে আসায় এই শিশুদের মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় নারী ও শিশুদের জামিন বিবেচনার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নগণ্য। আবার ১৯৬১ সালের প্রবেশন আইনের মাধ্যমে লঘু অপরাধে আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে সমাজসেবা অফিসারের তত্ত্বাবধানে রাখার বিধান থাকলেও তার চর্চা কম।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, শুধুমাত্র মায়ের অপরাধের কারণে শিশুকে কারাগারে বেড়ে উঠতে বাধ্য করা কতটা ন্যায়সংগত, তা ভাবার সময় এসেছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি সুবিধার অভাব এই শিশুগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।