সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৈডুবী সদরদী এলাকার হযরত ফাতেমাতুজ যহুরা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একই এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর বেশ কিছুদিন ধরে বিরক্ত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার সকালে মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী প্রতিবাদ জানান।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষে একপক্ষে বশার মাতুব্বর, বাক্কার মাতুব্বর, আলমগীর মাতুব্বর, হাসান মাতুব্বর ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের লোকজন এবং অপরপক্ষে মুফতি মনির ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী, পলাশ ব্যাপারী ও আতিয়ার ব্যাপারীর লোকজন ছিলেন।
আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আতিয়ার ব্যাপারীর ছেলে সানি ব্যাপারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর বলেন, মাদ্রাসাছাত্রীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তখন পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে বাড়ি পাঠানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাদ্রাসাছাত্রীদের বিরক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।