তিনি বলেছেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
শনিবার দুপুরে দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপুর দাবির প্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নতি করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবাইকে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর, ছাদ, ড্রেন, নালা ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মন্ত্রীও বলেছেন, জমে থাকা পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু মোকাবিলা কঠিন।
সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসা প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। জুনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবারও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি
হাম পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক শিশুকে ইতোমধ্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে প্রায় ৪ কোটি টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
তিনি বলেন, শুধু টিকা দিলেই হবে না; শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাও জরুরি। পুষ্টিহীনতার কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি, পরিচর্যা ও দ্রুত চিকিৎসার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, চিকিৎসক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।