এতে উত্তরাঞ্চলের পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থাও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জুলাই ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। পরে ২ সেপ্টেম্বর একই কারণে ‘কদম’ ফেরিটিও ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। এরও আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ফেরিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ফলে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে বর্তমানে কোনো ফেরি নেই।
এদিকে নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫ জুলাই থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের কারিগরি তত্ত্বাবধানে চিলমারী নৌবন্দর ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ারচর থেকে দুই বিঘা চর পর্যন্ত নদীপথ সাকশন ড্রেজারের মাধ্যমে খনন করা হয়।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এতে নৌপথের নাব্যতা সংকট অনেকটাই কেটে গেলেও ফেরি না থাকায় রুটটি সচল করা সম্ভব হয়নি।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী যানবাহনকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাব্যতা সংকট দূর করতে ড্রেজিং শেষ হলেও ফেরি চালুর উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। দ্রুত ফেরি ফেরত এনে চিলমারী-রৌমারী নৌরুট পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।