কোরবানির পশু নিয়ে গ্রাম থেকে আসা ট্রাকগুলো ঢাকা পৌঁছাতে কয়েক স্তরের চাঁদাবাজির শিকার হয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মহাসড়ক থেকে শুরু করে রাজধানীর প্রবেশপথ; প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন অজুহাতে গরুর ট্রাক আটকে টাকা আদায়ের খবর পাওয়া যায়। এর ফলে কেবল খামারিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতার পকেটে, বেড়ে যায় পশুর দাম। ভুক্তভোগীদের দাবি, হাইওয়ে এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছাড়া এই অশুভ চক্র থামানো সম্ভব নয়।
প্রতি বছরই দেখা যায়, রাজউকের বা সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গিয়ে অলিগলি কিংবা প্রধান সড়ক দখল করে অবৈধ হাট বসানো হয়। এতে একদিকে যেমন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এছাড়া ছাগলের হাটের নামে যত্রতত্র রাস্তা দখল করে টোল আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। নাগরিকরা প্রত্যাশা করেন, এবার যেন সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর মনিটরিং থাকে, যাতে অনুমোদিত সীমানার এক ইঞ্চি বাইরেও কোনো পশু বসতে না পারে।
পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা হলো ইজারাদারদের নিজস্ব লোকজনের দৌরাত্ম্য। সরকারি নির্ধারিত হাসিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা, ভুয়া রসিদ দেওয়া এবং পশুর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চাঁদাবাজির একটি কৌশল। সাধারণ মানুষের চাওয়া; প্রতিটি হাটে যেন পর্যাপ্ত পুলিশ বুথ থাকে এবং ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে হাসিল আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে।
সাধারণ মানুষের ঈদ তখনই আনন্দময় হয়, যখন তারা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে কোরবানির পশু সংগ্রহ করতে পারেন। গত কয়েক দিনের অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করলেও সাধারণ মানুষের শঙ্কা, মূল উৎসবের সময় এরা আবার সক্রিয় হবে কি না।
নির্ভেজাল একটি চাঁদাবাজিমুক্ত ঈদ কেবল প্রশাসনের ঘোষণায় নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। পশুর ট্রাক নির্বিঘ্নে চলাচল, অনুমোদিত স্থানে হাট পরিচালনা এবং যত্রতত্র চাদাঁবাজি বন্ধ করতে পারলেই এবারের ঈদুল আজহা প্রকৃত অর্থেই আনন্দময় হয়ে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণের।