ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মহসিন নাকভি একটি ঝকঝকে কালো গাড়ি থেকে নামছেন এবং তার গাড়ির দরজা খুলে দিচ্ছেন কালো ইউনিফর্মধারী এক নিরাপত্তাকর্মী। ওই নিরাপত্তাকর্মীর বুকের ব্যাজে নাম লেখা ছিল ‘ইরতাজা’ এবং পদবি হিসেবে লেখা ছিল ‘সিএসও’ (চিফ সিকিউরিটি অফিসার)। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ইউনিফর্মধারী ওই নিরাপত্তাকর্মী বাংলাদেশি নন, বরং মহসিন নাকভির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সদস্য। একজন বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে নিজ দেশের ইউনিফর্মধারী নিরাপত্তা সদস্য নিয়ে আসায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডক্টর নাসিরুদ্দিন আহমেদ জানান, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী কোনো ভিভিআইপি যখন অন্য দেশ সফর করেন, তখন সেই দেশের সরকারই তার নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে পারেন।
গণতান্ত্রিক পরিবেশ: বর্তমানে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, যেখানে বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকার কথা নয়।
বিদেশি প্রোটোকলের বাইরে আলাদা নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য কিছুটা হলেও বিব্রতকর। এটি কি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভুঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন:
"আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপরেও যদি কেউ অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন মনে করেন, তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তা নিয়ে আসতে পারেন।"
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, যদি নিরাপত্তাকর্মী নিরস্ত্র হন তবে আলাদা কোনো বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। তবে তার কাছে অস্ত্র থাকলে বিষয়টি কূটনৈতিক ও আইনিভাবে বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ব্যক্তিগতভাবে কেউ নিরাপত্তাকর্মী আনলে তা রাষ্ট্রের দুর্বলতা প্রকাশ করে না, কারণ রাষ্ট্রীয় প্রটোকল যথাযথভাবেই পালন করা হয়।
মহসিন নাকভি মূলত বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে ৮ মে ঢাকায় পৌঁছান। তবে সফরের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক গুরুত্ব ছাপিয়ে এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে তার ব্যক্তিগত ‘ইউনিফর্মধারী’ নিরাপত্তা বলয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কেন বিদেশি ইউনিফর্মধারী নিরাপত্তা সদস্যের প্রয়োজন পড়ল? এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত আভিজাত্য নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।