যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্স (ONS)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস পর্যন্ত সমাপ্ত তিন মাসে দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে চাকরির শূন্য পদ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৫ হাজারে, যা ২০২১ সালের পর সবচেয়ে কম। ওএনএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, টেক-অ্যাওয়ে, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) এবং রিটেইল খাতের মতো কম বেতনের জায়গাগুলোতে নিয়োগ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এই খাতগুলোতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত থাকায়, চলমান এই মন্দা কমিউনিটির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওএনএস আরও জানায়, কেবল এপ্রিল মাসেই পেরোলভুক্ত কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ লাখ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এদিকে বাজারে মজুরি বৃদ্ধির গতিও শ্লথ হয়ে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গড় নিয়মিত মজুরি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৩.৪ শতাংশে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয় সীমিত হয়ে পড়ছে। তবে শ্রমবাজারের এই দুর্বলতার কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত বিরত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক ও সরকারি মহলেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস সেক্রেটারি প্যাট ম্যাকফ্যাডেন বর্তমান পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে স্বীকার করেছেন যে, ইরান যুদ্ধ ব্রিটিশ শ্রমবাজারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো দাবি করেছে, সরকারের কর্মসংস্থান কর বৃদ্ধি এবং বাড়তি ব্যবসায়িক ব্যয়ের কারণেই মূলত প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখছে, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশটির তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে। যুক্তরাজ্যে যুব বেকারত্বের হার বর্তমানে ১৪.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজ (IFS)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের চাকরিতে অংশগ্রহণের হার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গবেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কর্মজীবনের শুরুতেই এই দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব তরুণদের ভবিষ্যৎ আয় ও ক্যারিয়ারের ওপর স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া শুধু অর্থনৈতিক সংকটই নয়, তরুণদের ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও তাদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।