কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট নবায়নের খরচ ৯৪.৫০ পাউন্ড থেকে বেড়ে হয়েছে ১০২ পাউন্ড। এই প্রথম অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের আবেদন ফি ১০০ পাউন্ডের ঘর অতিক্রম করল। অন্যদিকে শিশুদের পাসপোর্ট ফি ৫৩.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৬৫.৫০ পাউন্ড করা হয়েছে। যারা জরুরি ভিত্তিতে একদিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে ‘প্রিমিয়াম সার্ভিস’ নিতে চান, তাদের এখন গুনতে হবে ২৩৯.৫০ পাউন্ড।
ডাকযোগে (Post) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ানো হয়েছে। ডাকযোগে প্রাপ্তবয়স্কদের আবেদন ফি ১০৭ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১১৫.৫০ পাউন্ড এবং শিশুদের জন্য ৭৪ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৮৫ পাউন্ড করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যর বাইরে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্যও ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে; বিদেশ থেকে আবেদনকারী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এখন ১৩০ পাউন্ড এবং শিশুদের জন্য ৮৯ পাউন্ড ফি দিতে হবে।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এই মূল্য বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, পাসপোর্ট সেবার সম্পূর্ণ ব্যয় ব্যবহারকারীদের ফি থেকেই নির্বাহ করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ফি থেকে সংগৃহীত অর্থ পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের কনসুলার সহায়তা প্রদান, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা এবং যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। গত ২০২৩ সালে ৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭ শতাংশ ফি বাড়ানোর পর এটিই সর্বশেষ দফায় মূল্য বৃদ্ধি।
ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ও ইস্যুর তারিখ সংক্রান্ত কড়া নিয়ম মেনে চলার জন্য নাগরিকদের সতর্ক করেছে সরকার। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে (Schengen Area) ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টটি যাত্রার তারিখ অনুযায়ী অবশ্যই ১০ বছরের কম পুরনো হতে হবে এবং নিজ দেশে ফেরার নির্ধারিত তারিখের পর অন্তত আরও তিন মাস মেয়াদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যাদের কাছে নতুন নীল রঙের ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে তারা নিরাপদ থাকলেও, পুরনো লাল পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগেই মেয়াদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা যেকোনো জটিলতা এড়াতে ভ্রমণের অন্তত ১০ সপ্তাহ এবং নিরাপদ থাকার জন্য ৩ থেকে ৬ মাস আগেই পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।