বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে সদ্য পদত্যাগ করা স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং-এর (Wes Streeting) একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্তটি ছিল একটি ভয়াবহ ভুল।" স্ট্রিটিং দাবি করেন, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে দেশের প্রভাব ক্ষুণ্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে সুযোগ এলে যুক্তরাজ্যের পুনরায় ইইউ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে আবার সদস্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে তিনি যোগ করেন, জনগণের স্পষ্ট সমর্থন ছাড়া এমন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
স্ট্রিটিং-এর এই মন্তব্যের পরই লেবার পার্টির ভেতরে ও বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংস্কৃতি সচিব লিসা নন্দী এই মন্তব্যকে 'অস্বাভাবিক' বলে সমালোচনা করলেও, স্ট্রিটিং-এর সমর্থকরা পাল্টা দাবি করেছেন যে, ব্রেক্সিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার কারণেই দিন দিন সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে।
এদিকে এই বক্তব্যকে ঘিরে লেবার পার্টিকে তীব্র আক্রমণে মেতেছে বিরোধী দলগুলো। কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক বলেন, “যখন দেশের সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, অর্থনীতি এবং ভেঙে পড়া জনসেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন লেবার পার্টি পুরনো ব্রেক্সিট বিতর্ককে সামনে এনে মূল সমস্যা থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা লেবার রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ অ্যান্ডি বার্নহাম এই বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে দীর্ঘমেয়াদে ইইউ-তে ফেরার পক্ষে যুক্তি থাকতে পারে, তবে বর্তমান নির্বাচনে তিনি এটিকে ইস্যু করতে চান না। জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নতুন কোনো গণসমর্থন বা ম্যান্ডেট ছাড়া ইইউ-তে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
এই রাজনৈতিক বিভাজনকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ডানপন্থী দল 'রিফর্ম ইউকে'। মেকারফিল্ড এলাকার সিংহভাগ ভোটার ব্রেক্সিটের পক্ষে ছিলেন উল্লেখ করে দলটি দাবি করেছে, ইইউ-তে ফেরার যেকোনো আলোচনা স্থানীয় ভোটারদের ভাবাবেগে আঘাত করবে। বার্নহামকে চাপে ফেলতে তারা তাঁর অতীতের কিছু বক্তব্যও নতুন করে সামনে আনছে।
বিপরীতে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং গ্রিন পার্টি অফ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস শুরু থেকেই ব্রেক্সিটের বিরোধিতা করে আসছে। দল দুটির নেতারা মনে করেন, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইউরোপের সঙ্গে পুনরায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সদস্যপদ পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচন ও আগামী দিনের দলীয় নেতৃত্বের দৌড়ে ব্রেক্সিট ইস্যুটি ব্রিটিশ রাজনীতির সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।