ডিডব্লিউপির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলোচ্য অর্থবছরে প্রায় ৯.৯ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত পরিশোধ (ওভারপেমেন্ট) করা হয়েছে, যা দেশটির মোট বেনিফিট বাজেটের প্রায় ৩.২ শতাংশ। অন্যদিকে, যোগ্য প্রাপকদের প্রাপ্য অর্থের চেয়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড কম পরিশোধ করা হয়েছে, যা মোট ব্যয়ের ০.৪ শতাংশ। এই কম পরিশোধের পেছনে মূলত প্রশাসনিক জটিলতা, তথ্য হালনাগাদ করতে বিলম্ব এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষসহ ‘এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস’ (এইচএমআরসি)-এর মাঠপর্যায়ের ভুলভ্রান্তিকে দায়ী করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
যুক্তরাজ্যের বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা খাতের পরিধি উল্লেখ করে মিররের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ২৪.৩ মিলিয়ন মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রীয় বেনিফিট বা ভাতার আওতায় রয়েছেন। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বেনিফিট বাবদ সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৮ বিলিয়ন পাউন্ডে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণের বেশি।
তদন্তে অতিরিক্ত পরিশোধ হওয়া অর্থের সুনির্দিষ্ট খাত ও কারণও স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিপুল অংকের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন পাউন্ড হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির মাধ্যমে।
এছাড়া ২ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছে ভুয়া পেনশনের পেছনে এবং অবশিষ্ট ১.১ বিলিয়ন পাউন্ডের লেনদেন হয়েছে খোদ সরকারি কর্মকর্তাদের যান্ত্রিক বা দাপ্তরিক ভুলের কারণে। আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ার পর কিছু অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলেও, শেষ পর্যন্ত এই খাতে ব্রিটিশ সরকারের নিট (নেট) ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮.৬ বিলিয়ন পাউন্ড।