DWP-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউনিভার্সাল ক্রেডিট গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে যাত্রার আগেই তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সুবিধাভোগীদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো তাদের নির্দিষ্ট ‘ওয়ার্ক কোচ’ (Work Coach)-এর সাথে যোগাযোগ করে ভ্রমণের তারিখ এবং প্রত্যাবর্তনের সময়সহ বিস্তারিত পরিকল্পনা অবহিত করা। ছুটির তথ্য গোপন রাখলে সেটিকে নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে পেমেন্ট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিষয়টিকে ‘বেনিফিট ফ্রড’ বা জালিয়াতি হিসেবে ধরে নিয়ে আইনি তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সাধারণত ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের আওতায় থাকা কোনো ব্যক্তি বিদেশে গেলে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত তাদের পেমেন্ট বা সুবিধা অব্যাহত থাকে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু আবশ্যক শর্ত পূরণ করতে হয়:
বিদেশ গমনের পূর্বে এবং প্রবাসে অবস্থানকালীন সময়েও আবেদনকারীকে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাওয়ার সমস্ত প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে।
ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কর্মজীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা। তাই বিদেশে ছুটির সময়েও সুবিধাভোগীকে DWP-এর নিয়ম অনুযায়ী কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টা ও কাজের অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে হবে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে বর্ধিত ছুটির সুযোগ
কিছু বিশেষ এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট গ্রহণকারীরা অতিরিক্ত সময়
বিদেশে থাকাকালীন সময়ে কোনো নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু ঘটলে শোকাহত ব্যক্তি যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে এবং ওয়ার্ক কোচের অনুমোদনে অতিরিক্ত আরও এক মাস (মোট দুই মাস) প্রবাসে থাকার সুযোগ পেতে পারেন।
কোনো ব্যক্তি যদি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যান এবং এর সপক্ষে উপযুক্ত ও বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত এই সুবিধা ধরে রাখতে পারবেন। তবে এই দীর্ঘ ছুটির ক্ষেত্রেও ওয়ার্ক কোচের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাজ্য সরকার জনকল্যাণমূলক এই ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সাধারণ শাস্তি হিসেবে আর্থিক সুবিধা কমিয়ে দেওয়া বা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ছুটি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান কিংবা কর্মক্ষম থাকা সত্ত্বেও কাজ না খোঁজার মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ডের মতো কঠোর আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে।