কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর দ্রুত অগ্রগতির ফলে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে এক অভূতপূর্ব এবং বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রযুক্তিগত এই রূপান্তরের কারণে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ ইতোমধ্যে তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো একক কিংবা অফিশিয়াল বৈশ্বিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা যেমন—ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং ম্যাককিনজির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি কাজ অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়করণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অবশ্য একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির হাত ধরে নতুন ধরনের এআই-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের একটি বড় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রিটেনের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক একাই এআই এবং অটোমেশনের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাদের প্রায় ৭ হাজার ৮০০টি পদ কমানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ছাঁটাইয়ের একটি বড় অংশই কার্যকর হবে তাদের 'ব্যাক অফিস' বা অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কাজগুলো থেকে। একইভাবে অন্যান্য বৈশ্বিক ব্যাংক এবং ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানিগুলোতেও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্যে (UK) চলতি ২০২৬ সালে এআই-এর কারণে সুনির্দিষ্টভাবে মোট কতজন চাকরি হারিয়েছেন, তার কোনো একক সরকারি পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো—বিশেষ করে ব্যাংকিং, আইটি (তথ্য প্রযুক্তি) এবং কাস্টমার সার্ভিস খাতে এআই-এর ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে, যার ফলে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক চাকরি পুনর্গঠন অথবা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই সরাসরি সব কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে না; বরং এটি সামগ্রিক চাকরির কাঠামোকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এর ফলে সনাতন ঘরানার কিছু কাজের চাহিদা কমে গেলেও, তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত দক্ষতার বাজার। বর্তমান এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে হলে এআই সংক্রান্ত জ্ঞান এবং এর ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করা প্রতিটি পেশাজীবীর জন্য অত্যন্ত জরুরি ও যুগোপযোগী একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।