একই সঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিধান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় আলেম-উলামা, ফকিহ, মুফতি ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞসহ সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব কথা বলেন।
‘শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস করা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের ওপর আঘাতের শামিল।
তাদের দাবি, পবিত্র কুরআন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও প্রচলিত শরিয়াহ ব্যাখ্যা অনুযায়ী হেবা সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রহীতার কাছে সম্পত্তির দখল হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
কিন্তু সংশোধিত আইনে মালিকানা হস্তান্তরের পরও দাতার আজীবন ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, হেবা ও মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ বিধান শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইন প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন
ছাত্রশিবির নেতারা অভিযোগ করেন, ইসলামের উত্তরাধিকার আইন বিষয়ে কোনো স্বীকৃত ফকিহ, মুফতি বা শরিয়াহ বিশেষজ্ঞের মতামত না নিয়ে আইনমন্ত্রী নিজের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে তড়িঘড়ি করে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিলটি পাস করেছেন।
বিবৃতিতে তারা আরও দাবি করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থি কোনো আইন করা হবে না এবং মদিনা সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে বলে শাসকগোষ্ঠী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
এ ছাড়া বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে শরিয়া আইনকে ‘মধ্যযুগীয় আইন’ বলে কটাক্ষ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি
ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, ‘এ দেশে ইসলামের মৌলিক বিধানের পরিপন্থি কোনো আইনই মেনে নেওয়া হবে না।’
তারা অবিলম্বে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিধান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, ফকিহ, মুফতি ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞসহ সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বিলটির সংশ্লিষ্ট ধারা নিয়ে ছাত্রশিবিরের আপত্তির পাশাপাশি এর আইনগত ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাখ্যা নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।