গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে বিরোধী এই জোট।
জোটের নেতাদের দাবি, লংমার্চের মধ্য দিয়ে তারা জনগণের সাড়া পেয়েছেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও এই কর্মসূচিকে দেখছেন তারা।
মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় লংমার্চ। জোটের নেতারা কর্মসূচিটিকে সরকারের প্রতি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তারা।
যেসব স্থানে পথসভা
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উপস্থিতি ও সূচনা সভার মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়।
এরপর নারায়ণগঞ্জের মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পথসভা হয় কুমিল্লার পদুয়া বাজারে। এরপর ফেনীর মহিপালে তৃতীয় এবং চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে চতুর্থ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি শেষ হয়।
আরও বিভাগে লংমার্চের পরিকল্পনা
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের পর দেশের আরও কয়েকটি বিভাগে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সবশেষে সিলেট বিভাগে কর্মসূচি পালন করা হবে।
নেতাদের ভাষ্য, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে চান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।
ছয় দফা দাবিতে কর্মসূচি
১১ দলীয় ঐক্য জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
জোটের নেতারা বলছেন, এসব দাবি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ নয়; বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই মাঠপর্যায়ে মানুষের কাছে গিয়ে দাবিগুলোর পক্ষে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর অন্যান্য বিভাগে কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় জোট নিজেদের রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বিস্তৃত করতে চাইছে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর কতটা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা যায়, সেটিও সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।