রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি হাতে এসেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে অভিযুক্তের পিতৃত্বের বিষয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার এ ফলাফল মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। প্রযুক্তিগত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে এখন মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুতই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করবে বলে জানান তিনি।
যেভাবে প্রকাশ্যে আসে ঘটনা
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রাণনাশের হুমকির কারণে শিশুটি প্রথমদিকে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটির গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হলে র্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের অনুমতি নিয়ে গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে অভিযুক্ত সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২ জুলাই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনেই অভিযুক্তের ডিএনএর সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) একটি প্রতিনিধি দলও ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ঘটনাস্থল ও থানায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে।
ডিএনএ প্রতিবেদনসহ তদন্তের প্রয়োজনীয় প্রমাণ হাতে আসায় মামলাটি দ্রুত বিচারের পর্যায়ে যাবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগীর পরিবার।