পাথরঘাটা অ্যাডাপ্টেশন ক্লিনিকের কার্যালয়ে সোমবার ব্র্যাক ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের উদ্যোগে শস্য নিরাপত্তা বীমা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাথরঘাটা অ্যাডাপ্টেশন ক্লিনিকের আয়োজনে এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট অশীজনরা অংশ নেন।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল শস্য বীমার গুরুত্ব সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করা, জলবায়ুজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলায় শস্য বীমার ভূমিকা তুলে ধরা এবং কৃষকদের এ সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করা। পাশাপাশি শস্য বীমার সম্প্রসারণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা তানজিনুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামের এগ্রিকালচার অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স এর ডিভিশনাল সেক্ট্রর স্পেশালিষ্ট গাজী জাহিদুল ইসলাম, এক্সটেনশন কর্মকর্তা সাইমুন ইসলাম, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার (দাবি) মো. ইব্রাহিম খলিল , ব্রাঞ্চ ম্যানেজার (বিসিইউপি) শংকর কুমার বিশ্বাস এরিয়া ম্যানেজার হাসান ওয়াকিল। এছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের প্রজেক্ট অপারেশন ম্যানেজার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শস্য বীমা কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। শস্য বীমার মাধ্যমে কৃষক ক্ষতির ঝুঁকি কমিয়ে নতুন করে উৎপাদনে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের শস্য নিরাপত্তা বীমার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, বীমার আওতায় প্রাপ্ত সুবিধা, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পদ্ধতি এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের পর করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চান এবং নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।