নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে কোথাও সংবাদ সংগ্রহ বা ভ্রমণের আগে সরকারি অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কর্মরত বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে কাশ্মীরের সাম্প্রতিক প্রাদেশিক নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিস্তৃত প্রতিবেদনের পর। ওই অঞ্চলে অধিক রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি ও চাপ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) জানিয়েছে, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কর্মরত দুই স্বাধীন সাংবাদিককে গত ১ আগস্ট আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন সাংবাদিককে ‘ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযোগে আদালতে তলব করা হয়েছে। সম্প্রতি কাশ্মীর নির্বাচন নিয়ে আলজাজিরার এক স্থানীয় সাংবাদিকের প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেছে পাকিস্তান সরকার।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর সিনিয়র সহযোগী এশিয়া পরিচালক প্যাট্রিসিয়া গোসম্যান বলেন, পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার আগে থেকেই সীমিত। নতুন বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলবে।
এদিকে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)-এর সর্বশেষ সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।
পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস অবিলম্বে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার প্রমাণ করতে হলে সাংবাদিকদের ওপর আরোপিত এই সীমাবদ্ধতা তুলে নিতে হবে।
তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, নতুন নিয়ম সত্ত্বেও বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকদের জন্য ভ্রমণ অনুমোদনের একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ, গ্রেপ্তার, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধের মতো চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।