গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) আগস্ট উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এদবর খালের ওপর থাকা জনগুরুত্বপূর্ণ একটি পুরোনো আয়রন ব্রীজের বীম সহ মালামাল তুলে নেন।
এ সময় স্থানীয়দের বাঁধার মূখে পড়ে সাতুরিয়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকন।পথচারীদের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্রীজ টি খুলে ফেলায় প্রায় চার গ্রামের কয়েকশত মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপরের ওই সেতুটি ব্যবহার করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্কুল শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে পারাপার হতেন।
মানুষের চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই গোপনে ব্রীজের বীম ও মালামাল তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বাঁধা দেয়।
পরে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে লোক এসে মালামালের লিস্ট করে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ হেমায়েত এর জিম্মায় দিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি পুরোনো হওয়ায় কিছু অংশের স্লাব ভেঙ্গ গিয়েছিলো।
স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সুপারি গাছ ব্যবহার করে চলাচল করতেন। তারপরও সেতুটি ছিল তাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম।
এ বিষয়ে সেচ্ছাসেবকদল নেতা মামুন আকন জানান, সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে খালের ওপর থেকে আয়রন ব্রীজের বীম ও মালামাল তুলেছি।
সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু বলেন, আমি কাউকে ওই ব্রীজের বীম সহ মালামাল তুলে নেওয়ার অনুমতি দেইনি। ব্রীজের মালামাল অন্যত্র নিতে হলে পরিষদে রেজুলেশনের মাধ্যমে এবং মানুষের চলাচলের জন্য নতুন ব্রীজ কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা করে তারপর নিতে হবে। তাও ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি করবে। এখানে মামুন আকন কোনভাবেই মালামাল সরাতে পারে না ।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এস এম জিয়াউল হক বলেন, সেতুর মালামাল উঠানোর আগে কেউ আমাদের অনুমতি নেয়নি। ঘটনা শুনে আমরা অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে সিজার লিষ্ট করে দিয়েছি। পরে মালামাল চৌকিদার ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রেখেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।