সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাবেকপাড়া বাজারে ডিলার পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক আব্দুর রশিদ আগবাড়িয়া গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে এবং সোনারায় ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিবন্ধিত ডিলার।
অভিযোগ ও অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২৮ জন ডিলারের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। আব্দুর রশিদের নামে বরাদ্দ ছিল ৭০৭ বস্তা চাল। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৪০০ বস্তা চাল তার ডিলার পয়েন্টে পৌঁছায়।
কিন্তু উপকারভোগীদের হাতে চাল তুলে দেওয়ার পরিবর্তে সেই চাল অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে চাল না দিয়েই উপকারভোগীদের মাস্টাররোলে অগ্রিম ভুয়া টিপসই নেওয়া হয়।
অভিযানে গিয়ে প্রশাসন দেখতে পায়, ১৫১ জন উপকারভোগীর কাছ থেকে চাল দেওয়ার আগেই মাস্টাররোলে টিপসই নেওয়া হয়েছে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রত্যেকেই জানান, তাঁরা ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো চাল পাননি।
অভিযানকালে ডিলার পয়েন্ট থেকে ৪০০ বস্তার মধ্যে ৩৯৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। বাকি দুই বস্তা চাল ইতোমধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রশিদ জানান, যেসব উপকারভোগী চাল নেবেন না, তাঁদের বরাদ্দের চাল তিনি নিজেই কিনে নিয়ে বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। একইভাবে বরাদ্দের বাকি ৩০৭ বস্তা চালও অন্যত্র বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।
অর্থাৎ, সরকারি হিসাবের খাতায় উপকারভোগীর টিপসই—কিন্তু বাস্তবে চাল নেই। এই কৌশলেই সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ বলেন, চাল বিতরণ না করেই অগ্রিম ভুয়া টিপসই নেওয়ার অভিযোগে ডিলারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা চাল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আটক ডিলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
গাবতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে সরকারি চাল আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আব্দুর রশিদকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রশ্ন এখন একটাই—উপকারভোগীর টিপসই যদি চাল পাওয়ার প্রমাণ হয়, তাহলে চাল গেল কোথায়? প্রশাসনের অভিযানে সেই প্রশ্নেরই আপাতত জবাব মিলেছে ৩৯৮ বস্তা উদ্ধারের মধ্য দিয়ে। তবে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে এমন অনিয়মের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।