সোমবার (২২ জুন) বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ এ রায় ঘোষণা দেন।
রায়ে আদালত জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ঝিনাইদহের আদালতে অনন্য নজির হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিন পুলিশ আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য্য করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম মামলা পরিচালনা করেন। ১৬ জনের সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ সাজার রায় দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ হলো।
শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা-মা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।