ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল মাখা বন্দরের দক্ষিণে জাহাজটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয়সহ চার নাবিক নিহত হন।
পরে ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, দ্বিতীয় একটি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
হুথিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে কোনো জাহাজের ওপর গোষ্ঠীটির এটিই প্রথম প্রাণঘাতী হামলা।
গত মাসে হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা শুরু করে। এই অঞ্চলে সংঘাত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এ সময়ে একটি যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।
হুথিদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকার ও তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে যাওয়ার পর সর্বশেষ এই হামলা হয়েছে।
হুথিরা উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। রাজধানী সানা হুথিদের দখলে থাকায় সরকার দক্ষিণে অবস্থিত এডেন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বিবিসি ভেরিফাই কর্তৃক যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে লোহিত সাগরের মোহনায় অবস্থিত বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ দেখা গেছে।
এক বিবৃতিতে ইয়েমেন সরকার বলেছে, জাহাজটি খাদ্য বহন করছিল। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা হুথিদের আগ্রাসনের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে এক বিবৃতিতে সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, জাহাজটিকে সহায়তা করতে গিয়ে ইয়েমেনি নৌবাহিনী হামলার শিকার হয়েছে। এতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
কাছ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জাহাজটির নাম ‘তিহামাহ’। জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওয়ার্নার পয়েন্টের কাছে লোহিত সাগরে রয়েছে।
ভ্যানগার্ড জাহাজটিকে তানজানিয়ার পতাকাবাহী হিসেবে শনাক্ত করেছে। অন্যদিকে, শিপিং ওয়েবসাইট মেরিনট্র্যাফিক বলছে, এটি একটি মিশরীয় অপারেটরের মালিকানাধীন।