শনিবার (২৮ মার্চ) মুলাদী উপজেলার মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাট এলাকায় জয়ন্তী নদী পার হওয়ার সময় পুলিশের নৌযান ঘিরে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুলাদী উপজেলায় সালাম মুন্সির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মুলাদী থানার পরিদর্শক মো. মমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চু খানকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটক বাচ্চুকে নিয়ে পুলিশ জয়ন্তী নদী পার হওয়ার সময় নৌযানটি চারদিক থেকে একাধিক ট্রলারযোগে শতাধিক লোক ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, শনিবার রাতে চরকালেখান গ্রামের একটি বাসা থেকে বাচ্চু খানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সকালে তাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পথে নদীপথে পুলিশের নৌযান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, পুনরায় গ্রেপ্তারের পর সালাম মুন্সির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় বাচ্চু খানসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন সালাম মুন্সির স্ত্রী রাশিদা বেগম।
রোববার (২৯ মার্চ) আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইয়ে অংশ নেওয়াদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুটি ঘটনাতেই মুলাদী থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে।