এই ঘটনায় গত (২৭ জুন) ২৬ ইং শুক্রবার সকালে কাশিয়ানী থানায় মামলা করা হলে।পুলিশ রাতে অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে আটক করে। শিশুটির জবানবন্দি ওসি সহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়েছে বলে জানাযায়।
জানাযায়, সাফলীডাঙ্গা রহিমদিয়া শামসুল উলুম কাওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার আবাসিক,অনাবাসিক একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রী শিশুটি।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ( জিন্দার) ৬০ কাশিয়ানী থানার রামদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান এর পুত্র। তিনি গত (২৫ জুন)২৬ ইং সকাল আনুমানিক ১০: ৩০ টার দিকে শিশুটিকে লোভনীয় খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তার অফিস রুমে ডেকে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালান।
শিশুটি নিজ বাসায় এসে শরীর ও গোপনাঙ্গে ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করে। শিশুটির মা প্রশ্ন করলে শিশুটি তার মাকে তার সাথে কি কি করা হয়েছে সব কিছু খুলে বলে। এবং এর রকম ঘটনা আনুমানিক দুই থেকে তিন মাস ধরে একই কায়দায় শিশুটির সাথে ঘটতে থাকে বলে জানায়। এই ঘটনা কাউকে বললে শিশুটিকে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখার ভয়ভীতি দেখায় অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল।
মেয়ের মুখে এই ঘটনা শুনার পরে শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০২৩) এর ৯(১) ধারায় কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা করেন। (মামলা নং-২৪। প্রিন্সিপাল বিষয়টি জানতে পারলে মিমাংসার জন্য শিশুটির পরিবারের লোকজনদের অনুরোধ জানায়।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানাযায়, গত (১১ নভেম্বর) ২০২৫ ইং এই প্রিন্সিপাল আবাসিক মাদ্রাসার একটা মেয়েকে ধর্ষন করে। তবে স্থানীয় ভাবে চাপে পড়লে ঘটনাটি ৪ লাখ টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিয়ে দেয় বলে জানাযায়।
জানাযায় প্রিন্সিপালের ভাই সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের চাচা। সেই সুবাধে এই ধরনের জঘন্য কাজের পাশাপাশি মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে নিজে সহ স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ও ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা কালেকশন করে থাকে। যেটা তারা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকে।
এলাকাবাসী সহ শিশুটির পরিবারের দাবি, এই রকম জঘন্য কাজের যারা জড়িত তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি দেয়া উচিত। এবং সমাজে বর্তমান যে পরিমান মাদ্রাসা এতিমখানা গড়ে উঠেছে তার বিরুদ্ধে আইন প্রশাসনের নজরধারী করা উচিত। মাদ্রাসার মতো একটি পবিত্র স্থানে একজন প্রিন্সিপালের এমন হীন কর্মকাণ্ডে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজ রহমান জানান, মামলা হওয়ার সাথে সাথে রাতে আমরা অভিযুক্তকে আটক করেছি। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামী জেল হেফাজতে রয়েছে।