শনিবার (২৭ জুন) রাতে ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের উত্তর আনন্দপুর মজুমদার বাড়ির সৌদি প্রবাসী নূরের ছফা মজুমদার সোহেলের স্ত্রী জাকিয়া আক্তার (৩৮) এবং তার বড় মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০)। এই দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ কাউসার (৩২) নামে এক অটোরিকশা আরোহী যুবকও নিহত হয়েছেন।
স্বজনরা জানান, শনিবার সকালে ক্যান্সারে আক্রান্ত ননদকে দেখতে বাড়ি থেকে মেয়েসহ বের হয়েছিলেন জাকিয়া আক্তার। রাতে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও মরদেহ দুটি বাড়ির উঠোনে ফ্রিজার ভ্যানে রাখা হয়েছে। জাকিয়ার বড় ছেলে সৌরভ ও ছোট মেয়ে জিদনি মা-বোনকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকিয়া আক্তারের স্বামী নূরের ছফা মজুমদার সোহেল দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। স্ত্রী ও মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি রোববার দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে রওনা হয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক ১৪ বছর আগে এই ২৭ জুন তারিখেই তিনি তার মাকে হারিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মাত্র ৮ মাস আগে বিয়ে হওয়া বড় মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহার স্বামী কাজী আজাদ হোসেনও একজন ইতালি প্রবাসী। বিয়ের এক সপ্তাহ পরই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান। আগামী ১২ জুলাই স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং তিনিও জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরছেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উভয়ের স্বামী দেশে পৌঁছানোর পর সোমবার (২৯ জুন) জানাজার সময় নির্ধারণ করা হবে। পরে ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউনিয়নের মজুমদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা ও মেয়েকে পাশাপাশি দাফন করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরদিন রোববার নিহত কাউসারের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পিকআপ চালকের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মিজানুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।