রোববার (২ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ একটি চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য সময় চেয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ‘তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি’ খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ এবং একই সঙ্গে সফল ও সমৃদ্ধ একটি ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি। তবে শর্ত হলো, দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
তবে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে কোন কোন দেশ এই অনুরোধ জানিয়েছে, তা উল্লেখ করেননি। এর আগে তিনি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ট্রাম্প আরও জানান, ইসরায়েলও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তাঁর প্রশাসন সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ খবরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে তেহরান অভিযোগ করেছিল, ওয়াশিংটন অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা করে, তবে তারা ‘যুদ্ধের আগুনে পুড়ে যাবে’।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিয়েছে।
চুক্তির প্রস্তাবের পাশাপাশি হামলার হুমকি—দুই দিকেই অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।