টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মাদ্রাসা শিক্ষিকা নিজেদের জীবনবাজি রেখে জ্বলন্ত আগুনের হাত থেকে বাঁচালেন ২৮ শিশু প্রাণ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মধ্যরাতে সখীপুর জেলখানা মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত দারুল আতফাল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সখীপুর থানা পুলিশ ও সখীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সখীপুর জেলখানা মোড়ে অবস্থিত দারুল আতফাল মাদ্রাসার ছাত্রীদের আবাসিক হলে রাত দুইটার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এসময় ওই হলে ২৮ জন ছাত্রী এবং ২ জন শিক্ষিকা ও আয়া সুফিয়া অবস্থান করছিল। আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে যায় ওই মাদ্রাসার ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার, সুমাইয়া আক্তার ও আয়া সুফিয়া আক্তারের। চারদিকে তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ সবাই তখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কেউ বাইরে বের হয়ে আসতে পারছিল না। তখন ওই দুই শিক্ষিকা দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে একটি ভাঙ্গা মই খুঁজে পেয়ে ওই মই দিয়ে সকল শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার পেছনে অবস্থিত একটি টয়লেটের উপর দিয়ে বাইরে নামিয়ে এনে আগুনের হাত থেকে ওই মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে ও নিরাপত্তা প্রদানে সক্ষম হন। ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষিকা ও একজন আয়া নিজেদের জীবনবাজি রেখে শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকার বাসীন্দা স্কুল শিক্ষক জুলহাস উদ্দিনের ভাষ্যমতে, মধ্যরাত ১ টার দিকে ওই মাদ্রাসার চারদিকে ডাকাডাকি ও চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি সাথে সাথে বাসা থেকে বাইরে বের হয়ে দেখে পাশের মাদ্রাসার একটি ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে এবং শিক্ষকরা সাহসিকতার সাথে তাদের নিজেদের জীবনবাজি রেখে মাদ্রাসার ছাত্রীদের বাইবে বের করে এনেছেন।
মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ নূরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, আমরা ধারনা করছি রাত দুইটা আড়াইটার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আবাসিক শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার, সুমাইয়া আক্তার ও আয়া সুফিয়া জীবনে ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের বাইরে বের করে আনার ফলে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনে পুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।