মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে শহরের ফুলদীঘি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম, তিনি বগুড়া শহরের কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব শেষে মোটরসাইকেলে বনানী মোড় থেকে কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যাচ্ছিলেন এসআই মইনুল ইসলাম। পথিমধ্যে ফুলদীঘি এলাকায় পেপসি কোম্পানির সামনের সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে তারা তার কাছে থাকা মামলার নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে ডান পায়ে ছুরিকাঘাত করে এবং নথিপত্র নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রক্তাক্ত অবস্থায়ও ধৈর্য হারাননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা। স্থানীয় এক অটোরিকশাচালকের সহায়তায় তিনি নিজেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। হামলার পেছনে মামলার নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়াই মূল উদ্দেশ্য ছিল কিনা, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ছিনিয়ে নেওয়া নথিপত্রের গুরুত্ব এবং হামলার উদ্দেশ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যরাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর এমন হামলার ঘটনায় শহরজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মামলার নথিপত্র ছিনতাইয়ের বিষয়টি তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।