সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহে এ শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।
বক্তারা জানান, গত ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসায় অনুপ্রবেশ করে পরিচালকের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে ব্যাপক ভাঙচুর ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করার পর দিন ৩ জুলাই উল্টো পরিচালক মাওলানা সাইফুল ইসলামকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। বক্তাদের মতে, কোনো ধরনের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই এই ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম, শিক্ষা কার্যক্রম এবং পরিচালকের ব্যক্তি-সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
মাওলানা ইয়াসীন আরাফাত আনন্দপুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নয়াপাড়া নূর জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহীদুল্লাহ্, মিলার্স অটো জামে মসজিদের ইমাম মুফতি এনামুল হাসান, জামিয়া নূর হোসেন মহিলা মাদরাসার পরিচালক মুফতি নুরুল আলম সিদ্দিকী, মদীনাতুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক হাফেজ সানাউল্লাহ ও নূরে হেরা মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও যদি প্রশাসন তদন্তে অবহেলা বা বিলম্ব করে, তবে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
মানববন্ধনে মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্ষোভ ও আকুতি তুলে ধরে। ‘শরহে বেকায়া’ শ্রেণীর ছাত্রী তানজিনা আক্তার অভিযোগ করে, তাদের নির্দোষ উস্তাযকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। পরিচালকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাস ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দাবি করে সে। ‘হেদায়া’ শ্রেণীর ছাত্রী মাস্তুরা প্রশ্ন তোলে, কেন একজন শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করা হচ্ছে? একই সাথে সে মাদরাসায় স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানায়। প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষিকা আলেমা নাজমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিচালকের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
মানববন্ধন থেকে ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়— ১. ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা; ২. ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া; ৩. ২ জুলাই মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; এবং ৪. মাদরাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা।
সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশের জন্য দেশের গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পরিশেষে মাওলানা শহীদুল্লাহর বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে মানববন্ধন শেষ হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশরাফুল করিম জানান, মামলা হওয়ার পর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।