মমতাজ বেগম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। ফলে জীবনের শেষ সময়ে মমতাজের পাশে নিয়মিতভাবে দেখভাল করার মতো আপনজন যেন থেকেও নেই।
অভাবের সংসারে নিজের খাবার জোগাড়ের পাশাপাশি ভেড়াগুলোর খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় তাকে। প্রতিদিন ভোর থেকে মাঠে ভেড়াগুলো নিয়ে বের হন তিনি। সারাদিন মাঠে চরানোর পর সন্ধ্যায় ফিরে আসেন ঘরে। নিজের সন্তানের মতোই যত্ন নেন প্রতিটি ভেড়ার।
কোনো ভেড়া বিক্রি করতে হলে মনটা কেঁদে ওঠে মমতাজের। তবুও জীবন চালাতে কখনো কখনো প্রিয় ভেড়াগুলোই হয়ে ওঠে তার শেষ ভরসা। একটি ভেড়া বিক্রি করে জোটে খাবার, চলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ।
মমতাজ বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার সংসারে আর কেউ নেই। ছেলেও নিজের সংসার নিয়ে আলাদা থাকে। এই ভেড়াগুলোই এখন আমার আপনজন। এগুলো পালন করেই কোনোরকমে জীবন চালাই।”
স্থানীয়রা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে মমতাজ বেগম অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। বয়সের ভার থাকলেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ভেড়া নিয়ে মাঠে যেতে হয় তাকে। সরকারি সহায়তা পেলে তার জীবনযাত্রা কিছুটা স্বস্তির হতে পারে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মমতাজ আপার অবস্থা আমরা সবাই জানি। বয়স হয়েছে, স্বামীও নেই। ভেড়া পালন করে কোনোরকমে দিন কাটান। সরকারি সহযোগিতা পেলে অন্তত শেষ বয়সে একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।”
বয়স্ক ভাতা বা সরকারি সহায়তা না পাওয়ার বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, “মমতাজ বেগম আমার ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা। তার ভোটার আইডিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তিনি বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে যতদূর জানি, সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুত তিনি বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।”
স্থানীয়দের দাবি, মমতাজ বেগমের মতো অসহায় ও স্বামীহারা নারীদের তালিকা করে দ্রুত সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার ভেড়া পালনের উদ্যোগকে আরও বড় করতে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ কিংবা কয়েকটি ভেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে তিনি কারও বোঝা না হয়ে নিজেই স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচতে পারবেন।
শেষ বয়সে যেখানে একজন মানুষের প্রয়োজন একটু নিরাপদ আশ্রয়, একটু নিশ্চিন্ত জীবন—সেখানে মমতাজ বেগমের নিত্যদিনের সঙ্গী এখন মাঠের ঘাস আর দশটি ভেড়া। স্বামী হারানোর পর যে সংসার প্রায় থমকে গিয়েছিল, সেই সংসারের চাকা ঘুরছে আজ ভেড়ার পালের ওপর ভর করেই।