শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (জংলাপাড়া) এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ ঝর্ণার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল—যেন মৃত্যু লুকানোর এক নির্বাক প্রচেষ্টা।
নিহত ঝর্ণা ওই এলাকার হামিদুল ইসলামের মেয়ে। পারিবারিক আপত্তি উপেক্ষা করে দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে অপুকে বিয়ে করেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই যেন ধীরে ধীরে তাকে ঠেলে দেয় এক নিঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন জীবনের দিকে; পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে ঝর্ণা পাশের এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে সংসার শুরু করেন। তবে সেই সংসার ছিল অস্থিরতা আর অজানা অন্ধকারে মোড়া—যার শেষ দৃশ্য ফুটে উঠল এক নিথর দেহে।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী লাভলী আক্তার জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অপু প্রতিবেশী তানিয়াকে ফোন করে ঝর্ণার মৃত্যুর খবর জানায় এবং লাশ উদ্ধারের অনুরোধ করে। এরপর বিষয়টি দ্রুত বাড়ির মালিককে জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে শ্বাসরোধ বা বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হত্যার পর মরদেহ ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অপুর পালিত বাবা হযরত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পলাতক অপুকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।