নিহত ব্যক্তি: মো. সোহেল মিয়া (৪০), পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তিনি ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের গোপালপুর (আলিশারকুল) গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত: একই এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে ইসমাইল মিয়া (৩২)।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টা, সিন্দুরখান সড়ক সংলগ্ন সোহেল মিয়ার চায়ের দোকান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে সকাল ১০টার দিকে সিন্দুরখান সড়কে অবস্থিত সোহেল মিয়ার চায়ের দোকানে অতর্কিত হামলা চালান ইসমাইল মিয়া। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পানি খাওয়ার একটি কাঁচের গ্লাস দিয়ে সোহেল মিয়ার মাথায় তীব্র আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে যান।
বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই সোহেল মিয়া বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। স্বজনরা তাকে আবারও দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, দ্বিতীয়বার হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু তার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থানায় নিয়ে আসে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েই শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এসআই মামুনসহ পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযানে নামে। ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই মূল অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে গোপালপুর ও আশেপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তাদের তদন্তের পরিধি আরও জোরদার করেছে।